• বুধবার , ১৭ জুন, ২০২৬ | ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইবিতে জুলাই বিরোধী শক্তির আস্ফালনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

ইবিতে জুলাই বিরোধী শক্তির আস্ফালনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাই বিরোধী শক্তির আস্ফালনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রবিবার (২ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় দুপুর দেড় টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। পরে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা,আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট এ্যাকশন, লেগেছে রে লেগেছে ; রক্তে আগুন লেগেছে, দিয়েছি তো রক্ত; আরো দিবো রক্ত, আবু সাঈদ মুগ্ধ ; শেষ হয় নি যুদ্ধ, একটা একটা লীগ ধর; ধইরা ধইরা জেলে ভরসহ নানা স্লোগান দেন।

এসময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবি শাখার সাবেক সমন্বয়ক এস এম সুইট, সহ সমন্বয়ক ইয়াসকিরুল কবীর সৌরভ,  গোলাম রব্বানী, ছাত্রদল নেতা নূর উদ্দিন, রাফিজ, শিবির নেতা রায়হান নেজামীসহ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কতিপয় শিক্ষককে বহিষ্কৃত সিদ্ধান্তকে নাটক ও প্রহসন দাবি করে ছাত্রদল নেতা নূর উদ্দিন বলেন, প্রশাসন কতিপয় শিক্ষককে বহিষ্কার ও হাতেগোনা কয়েকজন ছাত্রের ছাত্রত্ব বাতিল করেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আরাফাতের নামকে বাদ দিয়েই তারা বাদবাকি চুনোপুঁটিদের বহিষ্কার করার যে নাটক, যে প্রহসন, সেই প্রহসনকে আমরা সে ঘৃণ্যাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।

তিনি আরও বলেন,  এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য পালিয়ে যাওয়া যে প্রশাসন, সালামের যে প্রশাসন, প্রক্টর ছিলো, তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে হাতেগোনা কয়েকজন চুনোপুঁটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। আমজাদের মত যে কুলাঙ্গাররা জুলাই আন্দোলনকারীদের জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করে, সেই তাকে যখন বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হয় না, তখন আমাদের প্রশ্ন জাগে আপনারা কিসের বিনিময়ে, কত টাকার বিনিময়ে আপনারা এই বিচারের প্রহসন চালু করছেন? খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেই চুনোপুঁটি এসব নাটক বাদ দিয়ে যারা রাঘববোয়াল আছে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা বর্তমান প্রশাসন আছে তাদেরকে দাঁত ভাঙা জবাব দেয়া হবে।


বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবি শাখার সাবেক সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীদের আকাঙ্খা ছিল জুলাইয়ে যে গনহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। গনহত্যায় যারা সহযোগিতা করেছিল, যারা গনহত্যার বৈধতা দিয়েছিল তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনার জন্য আমরা আহ্বান জানিয়েছিলাম। অনেক দিন পর হলেও একটা তালিকা করা হয়েছে শাস্তি কাদের দেওয়া হবে আর কাদের দেওয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের আশা পূরণ করতে পারে নাই। দেখতে পেয়েছি সেই তালিকায় অনেক রাঘব বোয়ালদের নাম আসে নাই। যারা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে যারা গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত বিভিন্নভাবেই সহযোগিতা করেছে তাদের নাম আসে নাই। আগামী এক সপ্তার মধ্যে এই শাস্ত্রতায় আসে নাই তাদেরকে শাস্তিরাওয়াতায় আনতে হবে।

এছাড়া তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে আমরা কখনোই না। কিন্তু অভ্যুত্থানের বিরোধী শক্তি শিক্ষার্থীদেরকে ম্যানিপুলেট করে এই কাজগুলো করানোর চেষ্টা করছে। আশা করছি যে এটি ধোপে টিকবে না এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের আমরা যেটা আহ্বান জানাচ্ছি আপনারা আরও স্ট্রেট হন এবং এ ধরনের আপনাদের দায়-দায়িত্ব যেহেতু নির্দিষ্ট কোনো দলের প্রতি না, সেক্ষেত্রে আপনাদের দায়-দায়িত্ব যেহেতু শহীদ এবং আমার আহত ভাই-বোনদের প্রতি। সেই ব্যাপার থেকে আপনারা শক্তিশালী ভূমিকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাখবে। এটুকু আমরা আশা করছি।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/