• বুধবার , ১৭ জুন, ২০২৬ | ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইবিতে সোচ্চার'র উদ্যোগে 'মানবাধিকার ও যুবকদের ভূমিকা' বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

ইবিতে সোচ্চার'র উদ্যোগে 'মানবাধিকার ও যুবকদের ভূমিকা' বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

দিনব্যাপী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি)  'মানবাধিকার ও যুবকদের ভূমিকা' শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইইআর ভবনের ১০২ নং কক্ষে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন ও সোচ্চার টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় এ কর্মশালার আয়োজন করে সোচ্চার স্টুডেন্ট'স নেটওয়ার্ক ইবি চ্যাপ্টার।

কর্মশালায় সোচ্চার স্টুডেন্ট'স নেটওয়ার্ক ইবি চ্যাপ্টারের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাহাতের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন জাতিসংঘের গভর্নেন্স বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র মানবাধিকার কর্মকর্তা জাহিদ হোসাইন, সোচ্চার টর্চার ওয়াচডগের প্রজেক্ট ম্যানেজার ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক সুমাইয়া তামান্না এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও সোচ্চার ট্রমা ম্যানেজমেন্ট ও সাপোর্ট বিভাগের সহকারী পরিচালক সুমাইয়া তাসনিম। এসময় সংগঠনটির উপদেষ্টা ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. ফকরুল ইসলাম, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ শিবলু ও অন্য সদস্যসহ ৩০ জন নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থী উপস্থিত ছিলেন। 

কর্মশালায় প্রশিক্ষকের মধ্যে জাতিসংঘের গভর্নেন্স বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র মানবাধিকার কর্মকর্তা জাহিদ হোসাইন 'মানবাধিকারের মৌলিক বিষয় ও জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রক্রিয়া', ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও সোচ্চার ট্রমা ম্যানেজমেন্ট ও সাপোর্ট বিভাগের সহকারী পরিচালক সুমাইয়া তাসনিম 'ট্রমাটাইজড অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের সহায়তা' ও সোচ্চার টর্চার ওয়াচডগের প্রজেক্ট ম্যানেজার ও জাককানইবির প্রভাষক সুমাইয়া তামান্না
'ক্যাম্পাসে মানবাধিকার ডকুমেন্টেশন ও এক্টিভিজম চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ফকরুল ইসলাম বলেন, আমরা জেলায় জেলায় রাজনৈতিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়েছি। অথচ আমাদের প্রয়োজন ছিল গুণগত পরিবর্তন। আমরা আমাদের স্ট্যান্ডার্ড ধরে নিয়েছি এ প্লাস। অথচ আমাদের সমাজে নারীদের মূল্যায়ন নেই, মানুষের নিরাপত্তা নেই। এটাই কি উন্নয়ন? সক্রেটিস বলেছেন নো দাই সেল্ফ। আমরা অধিকার নিয়ে কথা বলি কিন্তু আমাদের কর্তব্য আমরা জানিনা। এসব আমাদের ভাবতে হবে। নলেজ ইজ পাওয়ার বলতে একাডেমিক শিক্ষার কথা বলা হয়নি। এখানে সৎ জ্ঞান, সৎ গুণ অর্জনের কথা বলা হয়েছে। এজন্য দরকার ধর্মীয় শিক্ষার। কিন্তু ধর্মীয় শিক্ষা বলতে আমাদের বোঝানো হতো জামাত শিবির। অথচ প্রতিটি ধর্মেই নৈতিকতা ও ভার্চুয়াল নলেজ দেয়া হয়েছে। আমরা যেহেতু সোচ্চারের সাথে কাজ করছি, সোচ্চার যেহেতু আমাদের অধিকারের কথা বলে, এর সাথে আমাদের কর্তব্যের বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। তবেই আমরা একটি সুন্দর ক্যাম্পাস ও সুন্দর দেশ পাবো।


সংগঠনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাহাত বলেন, সোচ্চার টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধন মানবাধিকার সংগঠন। সংগঠনটি বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সোচ্চার স্টুডেন্ট'স নেটওয়ার্ক নামে শিক্ষার্থী নির্যাতন বন্ধ, নির্যাতন শিক্ষার্থীর আইনি পরামর্শ ও সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থী অধিকার নিয়ে কাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন ও সোচ্চার টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় গতকাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে জুলাই বিপ্লবের উপর জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের উপর সেমিনার আয়োজন করেছি। একইসাথে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাছাইকৃত ৩০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে দিনব্যাপী মানবাধিকার প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছি। শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং শিক্ষার্থী নির্যাতন বন্ধে সোচ্চার স্টুডেন্ট'স নেটওয়ার্ক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আগামী দিনেও কার্যক্রম গতিশীল রাখবে। ইনক্লুসিভ ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়তে সোচ্চার বদ্ধপরিকর।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/