• রবিবার , ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৮ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে স্বস্তি নেই, বেকায়দায় নিম্নবিত্তরা

মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে স্বস্তি নেই, বেকায়দায় নিম্নবিত্তরা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫৪ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর বাজারে মাছ, মুরগি ও ডিমের দামে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। মাছ ও মাংসের দামে বড় কোনো পরিবর্তন না থাকলেও ডিমের দাম বেড়েছে। মাছের বাজারেও একদিন কিছুটা কমলে পরদিনই আবার দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ডজন ডিম ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা

বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনপ্রতি প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা দরে। গত সপ্তাহে একই পরিমাণ ডিমের দাম ছিল ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা।

ডিম ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ডিমের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। বর্তমানে ডজনপ্রতি ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকাতেই বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির বাজারে কিছুটা কমেছে দাম

ব্রয়লার মুরগির দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে। রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দামে কিছুটা কমতি দেখা গেছে। সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি প্রায় ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা দরে।

মাছের দামে ওঠানামা

মাছের বাজারে দাম কিছুটা ওঠানামা করছে। কোনো কোনো মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে, আবার কিছু মাছের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে।

চাষের পাঙাশ প্রতি কেজি প্রায় ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা প্রায় ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চাষের কই প্রায় ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নিম্নবিত্তদের ওপর বাড়ছে চাপ

মাছের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষ। তুলনামূলক কম দামের পাঙাশ ও তেলাপিয়াও এখন অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, দাম বাড়ায় অনেক পরিবার মাছের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন। কেউ কেউ নিয়মিত মাছ কেনাও কমিয়ে দিয়েছেন।

রায়ের বাজারের এক দিনমজুর বলেন, আগে পাঙাশ ও তেলাপিয়া কিনলেও এখন এসব মাছের দামও বেশি। দিন দিন দাম বাড়ছে, কিন্তু কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

মাসের বাজারেও বাড়তি খরচ

রায়ের বাজারের এক ক্রেতা প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকায় রুই, শিং ও ট্যাংরা মাছ কিনেছেন। তার অভিযোগ, মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি মনে হচ্ছে। কয়েক ধরনের মাছ কিনতেই বড় অঙ্কের টাকা খরচ হচ্ছে।

সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে মাছ, মুরগি ও ডিমের দামে এখনো স্বস্তি না ফেরায় সীমিত আয়ের মানুষের ওপর বাজার খরচের চাপ আরও বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন