• বুধবার , ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জার্মানি উদ্‌যাপন করছে তার ঐতিহাসিক পুনর্মিলনের ৩৫তম বার্ষিকী

জার্মানি উদ্‌যাপন করছে তার ঐতিহাসিক পুনর্মিলনের ৩৫তম বার্ষিকী

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:০০ ৩ অক্টোবর ২০২৫

আজ শুক্রবার জার্মানি উদ্‌যাপন করছে তার ঐতিহাসিক পুনর্মিলনের ৩৫তম বার্ষিকী। ১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির একাত্মতা ঘোষণা হওয়ার পর দেশটি রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। এই বার্ষিকীকে ঘিরে বিশেষভাবে আলোচনার বিষয়—জার্মানি কী অর্জন করেছে এবং কী এখনও চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

জার্মান পার্লামেন্ট ভবনে জাতীয় পতাকা উড়ছে, তবে সাধারণ নাগরিকদের কাছে দিবসটির গুরুত্ব আগের মতো নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র আবেগে উদ্‌যাপন যথেষ্ট নয়; বরং বাস্তবতার আলোকে দেশের অর্জন ও চ্যালেঞ্জগুলো বিশ্লেষণ করা জরুরি।

ফ্রাঙ্কফুর্টের রন্ডসু পত্রিকা লিখেছে, “কখনো অতীতকে ভুলে যাবেন না, নইলে ভবিষ্যৎ পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হবে না।” পত্রিকাটি আরও উল্লেখ করেছে, রাজনৈতিক ঐক্য অর্জিত হলেও সামাজিক-রাজনৈতিক ঐক্য এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। এর জন্য দরকার আরও উন্মুক্ত আলোচনা ও সচেতনতা তৈরি করা।

পত্রিকাটি প্রশ্ন তুলেছে—জার্মানরা কীভাবে সত্যিকারের ঐক্যবদ্ধ থাকতে চায়? বর্তমান কাঠামো কি যথেষ্ট শক্তিশালী, নাকি আরও বাস্তব ও সাহসী সংস্কারের প্রয়োজন?

বার্লিনের টাগেস স্পিগেল পত্রিকার এক জরিপে দেখা গেছে, পশ্চিম জার্মানির ৬০ শতাংশ ও পূর্ব জার্মানির ৫৮ শতাংশ মানুষ তাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তবে মজুরি, সম্পদ ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে পূর্ব-পশ্চিম বৈষম্য এখনও বিদ্যমান। অর্থনৈতিকভাবে উৎপাদনশীলতা প্রায় সমান হলেও সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়ে গেছে।

রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সরকারের ক্ষেত্রে এখনও বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মন্ত্রিসভার ১৭ জন মন্ত্রীর মধ্যে কেবল দুজনই পূর্ব জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেছেন। পূর্বাঞ্চলের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো উভয় অঞ্চলের মানুষের জন্য সমানভাবে থাকা উচিত, যেখানে পশ্চিমাঞ্চলের মাত্র ৩২ শতাংশ এই মত পোষণ করেন। সরকারব্যবস্থার ক্ষেত্রে পশ্চিমের ৮৬ শতাংশ মানুষ বর্তমান ব্যবস্থাকে ঠিক মনে করেন, পূর্বের ক্ষেত্রে এই হার ৭৩ শতাংশ।

৩৫ বছর পরও বার্লিন দেয়ালের স্মৃতি জার্মানির ইতিহাসের অংশ হিসেবে রয়ে গেছে। দেশটির জন্য আসল চ্যালেঞ্জ হলো—সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমতার মাধ্যমে সত্যিকারের ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা।

বিজ্ঞাপন