• সোমবার , ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৩০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেনেজুয়েলার ‘কালো সোনা’ দখলের লড়াই: তেল লুটে ট্রাম্পের মহাতাণ্ডবে বিশ্ব রাজনীতিতে ঝড়

ভেনেজুয়েলার ‘কালো সোনা’ দখলের লড়াই: তেল লুটে ট্রাম্পের মহাতাণ্ডবে বিশ্ব রাজনীতিতে ঝড়

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৩৪ ৫ জানুয়ারী ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় একটি সফল সামরিক অভিযানের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে, ঠিক তখনই আরও বিস্ময়কর এক ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, এখন থেকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রক্ষমতা ও দেশটির বিপুল জ্বালানি তেলের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই ঘোষণার পর প্রশ্ন উঠেছে—বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও কেন ভেনেজুয়েলার তেলের প্রতি ওয়াশিংটনের এমন আগ্রহ?

মার্কিন জ্বালানি তথ্য সংস্থা ইআইএ-এর তথ্যমতে, ভেনেজুয়েলার ভূগর্ভে প্রায় ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল তেলের মজুত রয়েছে, যা বিশ্বের মোট তেল সম্পদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব তেল মজুতও উল্লেখযোগ্য, তবে সেগুলোর বেশির ভাগই ‘সুইট ক্রুড’ বা হালকা মানের তেল, যা মূলত গ্যাসোলিন উৎপাদনের জন্য উপযোগী। বিপরীতে, ভেনেজুয়েলার তেল অত্যন্ত ভারী ও ঘন প্রকৃতির। এই তেল পরিশোধনের মাধ্যমে উন্নতমানের ডিজেল, জেট ফুয়েল, অ্যাসফল্ট এবং ভারী শিল্পকারখানায় ব্যবহারের উপযোগী জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব—যার ওপর আমেরিকার শিল্প ও পরিবহন খাত ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

ভৌগোলিক দিক থেকেও ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে তেল আমদানির তুলনায় পরিবহন খরচ অনেক কম পড়ে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহ আরও সাশ্রয়ী ও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব। পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণের সুদূরপ্রসারী কৌশল।

বর্তমানে ভেনেজুয়েলা দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যা বিশ্ব সরবরাহের মাত্র শূন্য দশমিক আট শতাংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি দেশটির তেলক্ষেত্র আধুনিকায়ন করে উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ—উভয়ের ওপরই ওয়াশিংটনের প্রভাব বহুগুণে বেড়ে যাবে। এতে করে বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদুরো সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে মানবাধিকার লঙ্ঘন বা মাদক পাচারের অভিযোগ সামনে আনা হলেও এর নেপথ্যে মূল চালিকাশক্তি ছিল ভেনেজুয়েলার ‘কালো সোনা’। এই বিপুল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যেমন ল্যাটিন আমেরিকায় নিজের প্রভাব সুদৃঢ় করল, অন্যদিকে তেল রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া ও চীনের অবস্থানকে দুর্বল করে দিল। ভেনেজুয়েলার তেল ঘিরে এই ভূ-রাজনৈতিক লড়াই যে আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতিতে আরও বড় অস্থিরতা তৈরি করবে, সে আশঙ্কাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন