গাজার ধ্বংস দেখে ‘ভালো লাগছে’ মন্তব্য ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটসের


প্রকাশিত: ১২:১৯ ১৪ জুলাই ২০২৬
উত্তর গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে তৈরি ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ দেখে ‘ভালো অনুভূতি’ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটস। অঞ্চলটি পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর গাজার বর্তমান পরিস্থিতি দেখে তার অনুভূতি জানতে চাইলে কাটস বলেন, এটি একটি ‘ভালো অনুভূতি’। তার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, গাজার বর্তমান অবস্থা আকস্মিক কোনো ঘটনার ফল নয়। বরং নিরাপত্তা হুমকি নির্মূলের উদ্দেশ্যে নেওয়া একটি পরিকল্পিত সামরিক নীতির অংশ হিসেবেই সেখানে অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
আগের সামরিক কৌশলের সঙ্গে বর্তমান অবস্থানের পার্থক্য তুলে ধরে কাটস বলেন, অতীতে ইসরায়েলি সেনারা গাজায় অভিযান চালিয়ে পরে ফিরে যেত। বর্তমানে সেনারা দখলে নেওয়া এলাকাগুলোতে অবস্থান ধরে রাখছে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সামরিক সক্ষমতা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এর আগেও কাটস জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বজায় রাখা হবে। একই সঙ্গে উত্তর গাজায় বেসামরিক ও সামরিক বৈশিষ্ট্যের বিশেষ ইউনিট বা নাহাল স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তিনি বলেছিলেন। এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার ভেতরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত তিনটি নতুন আউটপোস্ট স্থাপনের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন কাটস। এসব স্থাপনার মাধ্যমে ওই অঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমালোচকেরা।
গাজায় ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ রয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ইসরায়েল। একই সময়ে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে মানবিক অঞ্চল ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির আলোচনা চললেও সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইসরায়েলি সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে, হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হুমকি প্রতিরোধ এবং ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই গাজায় সামরিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ, মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন দেশ গাজায় ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে।
কাটসের সর্বশেষ মন্তব্যের পূর্ণাঙ্গ ভিডিও বা সরকারি প্রতিলিপি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে বক্তব্যটি সত্য হলে, গাজার ধ্বংসস্তূপ নিয়ে একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার এমন প্রতিক্রিয়া মানবিকতা ও যুদ্ধকালীন দায়িত্ববোধ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই ও রয়টার্স।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - আন্তর্জাতিক
- কারাগারেই মায়ের আদ্যশ্রাদ্ধ করতে চান চিন্ময় কৃষ্ণ দাস
- বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ ছাড়ছেন সালমান এফ রহমান
- কাদের-সাদ্দামসহ ৭ আওয়ামী নেতার মামলার রায় আজ
- ফ্রান্স দলে বিভক্তির শঙ্কা, এমবাপে-দেম্বেলেকে ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
- তুরস্ক ভ্রমণে এসে ইসলাম গ্রহণ করলেন দক্ষিণ কোরীয় নারী
- শহীদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, দেওয়া হলো আর্থিক সহায়তা
- আকরাম খান জীবনী: যে জয়ে বদলে গিয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট
- অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পেতেই জামায়াত জোটে আসিফ: রাশেদ খাঁন
- দেশে ফিরেই আওয়ামী লীগকে লজ্জার রাজনীতি না করার বার্তা বাঁধনের
- জামানত ছাড়াই ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, পাবেন যেসব তরুণ উদ্যোক্তা
- রাজ্জাক দেওয়ান স্মরণে গাইবেন বগা তালেবসহ ১৫ শিল্পী
- মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির
- ভারতে ‘ভূত আতঙ্কে’ হোস্টেল ছাড়ল ৬০০ শিক্ষার্থী, চিকিৎসকদের ভিন্ন ব্যাখ্যা
- ফের ‘জান্নাত’ নিয়ে আসছেন ইমরান হাশমি, আসছে ‘জান্নাত ৩’
- ডা. তাসনিম জারা: শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও রাজনীতি
- হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইরান
- এনবিআর ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
- আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে জামায়াত: রাশেদ খান
- পাকিস্তানের হাসপাতালে এসি বিস্ফোরণ, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু
- আখ চাষে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য, খুলছে বাড়তি আয়ের পথ




