শূকরের কিডনি নিয়ে ৯ মাস বেঁচে থাকার রেকর্ড


প্রকাশিত: ১০:১৭ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জিনগতভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি মানবদেহে প্রতিস্থাপনের পর ২৭১ দিন ডায়ালাইসিস ছাড়াই বেঁচে থাকার নতুন রেকর্ড গড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের টিম অ্যান্ড্রুস। ৬৬ বছর বয়সে শেষ পর্যায়ের কিডনি রোগে আক্রান্ত এই রোগীর শরীরে একটি জিন-সম্পাদিত শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। পরে সেই কিডনি সরিয়ে মৃত মানবদাতার কাছ থেকে পাওয়া কিডনি সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়।
টাইপ-২ ডায়াবেটিসজনিত কিডনি বিকলের কারণে অ্যান্ড্রুসের মানব কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু উপযুক্ত মানবদাতা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকায় চিকিৎসকেরা বিকল্প হিসেবে জিনগতভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে তার শরীরে ইয়ুকাটান মিনিয়েচার জাতের ‘উইলমা’ নামের শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়।
মানবদেহে অঙ্গটি গ্রহণযোগ্য করে তুলতে শূকরটির জিনে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা যেন কিডনিটিকে দ্রুত প্রত্যাখ্যান না করে এবং শূকরের জিন বা জীবাণু থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো। প্রতিস্থাপনের পর কিডনিটি কার্যকরভাবে কাজ করে এবং অ্যান্ড্রুসকে দীর্ঘ সময় ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হয়নি।
প্রায় ছয় মাস পর শূকরের কিডনির রক্তনালিতে ক্ষতির লক্ষণ দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে এর কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২৭১ দিন পর কিডনিটি অপসারণ করা হয়। এরপর অ্যান্ড্রুস কিছু সময় ডায়ালাইসিস নেওয়ার পর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মৃত মানবদাতার কাছ থেকে একটি কিডনি পান। ছয় মাসের পর্যবেক্ষণে নতুন কিডনিটি ভালোভাবে কাজ করেছে এবং বড় ধরনের প্রত্যাখ্যানের সমস্যা দেখা যায়নি।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি প্রথমবারের মতো দেখিয়েছে যে জিনগতভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি একজন রোগীকে মানব কিডনি পাওয়ার আগ পর্যন্ত ‘সেতু’ হিসেবে সহায়তা করতে পারে। এর আগে ২০২৪ সালে জীবিত মানুষের শরীরে প্রথম শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল, তবে সেই রোগী ৫২ দিন পর মারা যান।
তবে গবেষকেরা বলছেন, একজন রোগীর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই পদ্ধতিকে এখনই নিয়মিত চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। জিনগতভাবে পরিবর্তিত প্রাণীর অঙ্গ দীর্ঘমেয়াদে কতটা নিরাপদ ও কার্যকর, তা নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানব অঙ্গের সংকট মোকাবিলায় ভবিষ্যতে এই ধরনের অঙ্গপ্রতিস্থাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - আন্তর্জাতিক
- অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পেতেই জামায়াত জোটে আসিফ: রাশেদ খাঁন
- দেশে ফিরেই আওয়ামী লীগকে লজ্জার রাজনীতি না করার বার্তা বাঁধনের
- জামানত ছাড়াই ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, পাবেন যেসব তরুণ উদ্যোক্তা
- নাকভির হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ার কারণ জানাল ভারত
- দোতলা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করছে উত্তর কোরিয়া
- উত্তরা থেকে জামালপুর আওয়ামী লীগ নেতা শাহীনুজ্জামান গ্রেপ্তার
- ডেভিড ইমনের সহযোগী ‘ডাবা হারুন’ গ্রেপ্তার
- যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য সরকারের
- ১০ মাস পর ঢাকায় ফিরছে কাভিশ, সঙ্গে শিরোনামহীন ও মেঘদল
- ইসলামের নামে যারা সমাজে ঘৃণা ছড়ায়, তারা সর্বোচ্চ মাসুদ হওয়ার যোগ্য
- রাজ্জাক দেওয়ান স্মরণে গাইবেন বগা তালেবসহ ১৫ শিল্পী
- মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির
- টেস্টোস্টেরন পরীক্ষায় কি লিঙ্গ নির্ধারণ সম্ভব? জানুন বিজ্ঞান কী বলে
- ভারতে ‘ভূত আতঙ্কে’ হোস্টেল ছাড়ল ৬০০ শিক্ষার্থী, চিকিৎসকদের ভিন্ন ব্যাখ্যা
- হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইরান
- ফের ‘জান্নাত’ নিয়ে আসছেন ইমরান হাশমি, আসছে ‘জান্নাত ৩’
- ডা. তাসনিম জারা: শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও রাজনীতি
- এনবিআর ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
- আখ চাষে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য, খুলছে বাড়তি আয়ের পথ
- পাকিস্তানের হাসপাতালে এসি বিস্ফোরণ, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু




