• বুধবার , ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘কে কী বলল বিবেচ্য নয়’—১২ ফেব্রুয়ারিতেই ভোটের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের

‘কে কী বলল বিবেচ্য নয়’—১২ ফেব্রুয়ারিতেই ভোটের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৪৮ ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন কূটনীতিকদের বিভিন্ন বক্তব্য বা পরামর্শকে গুরুত্ব না দিয়ে নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে—এ কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, নির্বাচন একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়—ঠিক ১২ ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে এবং এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকারী যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। ভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে জনমনে সন্দেহ তৈরি করার চেষ্টা করছে। তবে এসব অপপ্রচার সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকারে অটল রয়েছে। নির্বাচনের ফল ঘোষণা শেষে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

নির্বাচনকালীন সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে বলে জানান ড. ইউনূস। তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে এবং প্রশাসন পরিচালিত হবে পক্ষপাতমুক্তভাবে। নির্বাচন যাতে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য হয়, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবে।

প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন ছাড়াও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনকারীদের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছড়ানো ভুয়া খবর ও মিসইনফরমেশন, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’-এর সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

গণভোট প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে। জনগণের সম্মতি পেলে এই সনদ গণতান্ত্রিক শাসনের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরশাসনের পুনরাবৃত্তির পথ রুদ্ধ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ড. ইউনূস আরও বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকেরা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। ক্রমেই তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করতে পারছে।

এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গোম্বিস প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ভুয়া খবর বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শত্রু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই হুমকি মোকাবিলায় সরকার, গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সমন্বিত ও জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন