ভোরেই মহাসমাবেশস্থল পরিপূর্ণ: রাজধানীতে জামায়াতের জনসমুদ্র


প্রকাশিত: ০৯:২১ ১৯ জুলাই ২০২৫
রাজনৈতিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও সাত দফা দাবির প্রেক্ষিতে শনিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যদিও সমাবেশের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা দুপুর ২টায়, তবে ভোরের আলো ফোটার আগেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান জনস্রোতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
শুক্রবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দলে দলে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা রাজধানীতে আসতে শুরু করেন। রাতভর বিভিন্ন পরিবহনযানে করে তারা সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছান। ক্লান্তি ও ঘুমহীনতা উপেক্ষা করে সবার মুখেই ছিল আত্মবিশ্বাস ও প্রত্যয়ের ছাপ। কেউ এসেছেন লঞ্চে, কেউ বাসে, কেউবা ট্রাকে—কিন্তু সবাই এসেছেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে, নিজের খরচে, নির্দিষ্ট নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম জানান, তার জেলা ঝালকাঠি থেকে হাজারো নেতাকর্মী ঢাকায় এসেছেন লঞ্চে। সকলেই নিজের খরচে এসেছেন, সংগঠনের ওপর কোনো চাপ না দিয়ে। এমনকি অনেকে অন্যদের খরচও নিজে বহন করেছেন। তারিকুল বলেন, “লঞ্চে কোনো গান-বাজনা, তাস খেলা, ধূমপান বা মাদকের ব্যবহার ছিল না। সবাই ছিল অত্যন্ত শৃঙ্খল ও সচেতন। এটা সত্যিই এক অনন্য অভিজ্ঞতা।”
একইভাবে কুমিল্লা থেকে আসা যুবক আবির রহমান জানান, তারা গতরাতে রওনা দিয়ে ফজরের আগেই সমাবেশস্থলে পৌঁছেছেন। সঙ্গে এনেছেন শুকনো খাবার, পানি ও জায়নামাজ। “আমরা নিজেরাই খরচ করেছি, সংগঠনের কোনো অর্থ ব্যবহার করিনি। বরং কেউ কেউ স্বেচ্ছায় ১০-২০ জনের খরচও দিয়েছেন,” বলেন আবির।
দূর উত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে আসা কাউসার ইসলাম জানান, “আমাদের নির্দেশনা ছিল ফজরের নামাজের পরেই মাঠে থাকতে হবে। সে অনুযায়ী আমরা বিকেলে রওনা দিয়ে ফজরের সময় ঢাকায় পৌঁছাই। গাড়ি নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে সকলে মাঠে চলে আসি।”
মহাসমাবেশে ইসলামি সংগীত পরিবেশন করছেন দেশের খ্যাতনামা শিল্পীরা। সকাল ১০টা থেকেই শুরু হয়েছে তাদের পরিবেশনা। এছাড়া, মাঠে রয়েছে ওজু ও নামাজের ব্যবস্থা, মেডিকেল বুথ ও পর্যাপ্ত শৃঙ্খলা ব্যবস্থা। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পুরো সমাবেশ এলাকা নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ও অন্যান্য শীর্ষ নেতারা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, বিচার বিভাগের সংস্কারসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরবেন। বিশেষ বিষয় হচ্ছে, জামায়াত এই সমাবেশে দেশের সক্রিয় সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, একটি সার্বজনীন ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে।
এই মহাসমাবেশ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং একটি সামাজিক-নৈতিক বার্তা। শৃঙ্খলা, আত্মনির্ভরতা ও সহনশীলতার মধ্য দিয়ে আদর্শিক রাজনীতির চিত্র তুলে ধরেছে এই আয়োজন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান যেন আজ সাক্ষ্য দিচ্ছে, বাংলাদেশে শৃঙ্খলিত রাজনৈতিক চর্চা এখনো সম্ভব—যদি থাকে সঠিক নেতৃত্ব, দৃঢ় মানসিকতা আর আদর্শিক অঙ্গীকার।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - রাজনীতি
- অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পেতেই জামায়াত জোটে আসিফ: রাশেদ খাঁন
- দেশে ফিরেই আওয়ামী লীগকে লজ্জার রাজনীতি না করার বার্তা বাঁধনের
- জামানত ছাড়াই ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, পাবেন যেসব তরুণ উদ্যোক্তা
- নাকভির হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ার কারণ জানাল ভারত
- দোতলা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করছে উত্তর কোরিয়া
- উত্তরা থেকে জামালপুর আওয়ামী লীগ নেতা শাহীনুজ্জামান গ্রেপ্তার
- ডেভিড ইমনের সহযোগী ‘ডাবা হারুন’ গ্রেপ্তার
- যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য সরকারের
- ১০ মাস পর ঢাকায় ফিরছে কাভিশ, সঙ্গে শিরোনামহীন ও মেঘদল
- ইসলামের নামে যারা সমাজে ঘৃণা ছড়ায়, তারা সর্বোচ্চ মাসুদ হওয়ার যোগ্য
- রাজ্জাক দেওয়ান স্মরণে গাইবেন বগা তালেবসহ ১৫ শিল্পী
- মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির
- টেস্টোস্টেরন পরীক্ষায় কি লিঙ্গ নির্ধারণ সম্ভব? জানুন বিজ্ঞান কী বলে
- ভারতে ‘ভূত আতঙ্কে’ হোস্টেল ছাড়ল ৬০০ শিক্ষার্থী, চিকিৎসকদের ভিন্ন ব্যাখ্যা
- হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইরান
- এনবিআর ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
- ফের ‘জান্নাত’ নিয়ে আসছেন ইমরান হাশমি, আসছে ‘জান্নাত ৩’
- ডা. তাসনিম জারা: শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও রাজনীতি
- পাকিস্তানের হাসপাতালে এসি বিস্ফোরণ, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু
- আখ চাষে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য, খুলছে বাড়তি আয়ের পথ




