• বুধবার , ১৭ জুন, ২০২৬ | ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারাদেশে ২৭ হাজার বৈধ অস্ত্র জমা, এখনো জমা হয়নি ২০ হাজারের বেশি

সারাদেশে ২৭ হাজার বৈধ অস্ত্র জমা, এখনো জমা হয়নি ২০ হাজারের বেশি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:২৫ ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে লাইসেন্সধারী বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সারা দেশে ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ অস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা পড়েছে।

তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও এখনো ২০ হাজার ২৮৮টি আগ্নেয়াস্ত্র জমা পড়েনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দেশে ব্যক্তির নামে মোট ৪৮ হাজার ২৮৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছিল।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্র জমা না দিলে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আগেই সতর্ক করা হয়।

গত ১৮ জানুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সব বৈধ অস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের সব পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যমতে, এখনো জমা না পড়া অস্ত্রের একটি বড় অংশ আগের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লাইসেন্সকৃত। এসব অস্ত্রের মালিকদের কেউ বিদেশে অবস্থান করছেন, আবার কেউ আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিপুলসংখ্যক অস্ত্র বাইরে থাকায় নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, জমা না দেওয়া প্রতিটি অস্ত্রই নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তিনি জানান, থানা থেকে লুট হওয়া ব্যক্তিগত অস্ত্র এবং অবৈধভাবে দেশে আসা অস্ত্র মোকাবিলায় পুলিশ সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে।

আইজিপি আরও বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ ও জমা না দেওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এসব পদক্ষেপ জরুরি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এখন থেকে জমা না দেওয়া অস্ত্র অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সহিংসতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ ও সংঘাতমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/