• বুধবার , ১৭ জুন, ২০২৬ | ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজার-৪ আসনে ৫৫ বছর পর বিএনপির ঐতিহাসিক জয়

মৌলভীবাজার-৪ আসনে ৫৫ বছর পর বিএনপির ঐতিহাসিক জয়

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪৮ ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনটি দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল এবং জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির কোনো প্রার্থী এখানে জয়লাভ করতে পারেননি। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৫ বছর পর এ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছেন। স্থানীয়দের মতে, এটি একটি ঐতিহাসিক ও ভূমিধস জয়।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) পোস্টাল ভোটসহ মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা নূরে আলম হামিদী পেয়েছেন ৫০ হাজার ২০৪ ভোট। ১ লাখ ২০ হাজার ৬৭৩ ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হন।

এটি সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থীর বিজয়ের রেকর্ড।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে এ আসনে আওয়ামী লীগের ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে সংখ্যালঘু ও চা শ্রমিকদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। তবে এবারের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ও তার দলীয় নেতাকর্মীরা তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালান।

দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় হাজী মুজিব চা-বাগান শ্রমিক, ২৬টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং সংখ্যালঘু হিন্দু ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পাশাপাশি গ্রামীণ মুসলিম ভোটারদের মধ্যেও তার ব্যাপক সমর্থন লক্ষ্য করা যায়।

২০০১ সালে তিনি প্রথমবার এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও সাতবারের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও হয়রানির অভিযোগ ওঠে। ২০০৯ সালের পর বিভিন্ন মামলায় তিনি প্রায় চার বছর কারাভোগ করেন বলেও জানা যায়।

২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়েও তিনি অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এলাকায় তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় বলে স্থানীয়রা মনে করেন।

মৌলভীবাজার-৪ আসনে মোট ১৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে প্রায় ২ হাজার ৫০০ পোস্টাল ভোটারসহ মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৮ জন। ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিন মিয়া মধু উল্লেখযোগ্য ভোট পাননি।

দুই উপজেলায় মোট ভোট পড়েছে (বাতিলসহ) ২ লাখ ৭২ হাজার ২৯৪টি, যা প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির সমান।

ভোটারদের মতে, প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, বিএনপির সক্রিয় সাংগঠনিক তৎপরতা এবং ঘোষিত বিভিন্ন নাগরিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি—বিশেষ করে কৃষি ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি—এই বিজয়ে ভূমিকা রেখেছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/