• রবিবার , ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অনড় অবস্থানে ইরান : খামেনি

পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অনড় অবস্থানে ইরান : খামেনি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩০ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি আলোচনা হবে না। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আগেই ফলাফল ঠিক করে রেখেছে। তাই আলোচনার নামে যেটি হচ্ছে, সেটি আসলে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছু নয়।

এর আগে জাতিসংঘ অধিবেশনের প্রান্তে ইউরোপীয় তিন দেশ—জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাসের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল আসন্ন জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল। ইউরোপীয় দেশগুলো স্পষ্ট জানিয়েছে, তেহরান যদি তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা না আনে এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার না দেয়, তাহলে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত থাকবে না।

জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থা আইএইএ ইতোমধ্যেই জানিয়েছে, অনুমোদিত সীমার চেয়ে ৪০ গুণ বেশি ইউরেনিয়াম মজুত করেছে ইরান। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি অনুযায়ী, ইরান কিছু শর্ত মানার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পেয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে চুক্তি থেকে সরে গিয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। বর্তমান বাইডেন প্রশাসনও মূলত সেই নীতি অনুসরণ করে আসছে।

নিজের বক্তব্যে খামেনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে চায় না। তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার থেকে তারা কোনোভাবেই সরে আসবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসী পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও উল্লেখ করেন।

খামেনির এই মন্তব্যের পর ইরান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ আলোচনায় অগ্রগতি না হলে শনিবার থেকেই নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। এতে ইরানের বিদেশি সম্পদ জব্দ, অস্ত্র চুক্তি স্থগিত এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে বড় বাধার মুখে পড়বে। ইরানি সংসদের কট্টরপন্থী সদস্যরা ইতিমধ্যেই পারমাণবিক বোমা তৈরির দাবি তুলেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

তবে সামান্য হলেও আশার বার্তা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। তিনি জানিয়েছেন, যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে, তবে সমঝোতার পথ খুঁজে বের করা সম্ভব। আইএইএর পরিদর্শক দলও প্রস্তুত রয়েছে। সবশেষে তিনি বলেন, ইরান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ও সমঝোতা ফিরিয়ে আনা গেলে উত্তেজনা প্রশমিত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন