• রবিবার , ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার জুলাই যোদ্ধাদের ‘পাক-দালাল’ আখ্যা, নতুন বিতর্কে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম!

এবার জুলাই যোদ্ধাদের ‘পাক-দালাল’ আখ্যা, নতুন বিতর্কে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম!

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:২৫ ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর সারা বাংলাদেশে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে দ্রুত বিচার এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছে।

এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ঘাতক দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের একাংশের ধারণা, হত্যার পেছনে ভারত এবং ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নির্দেশনা থাকতে পারে। যদিও এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।

এমন গুরুতর অভিযোগ ও দেশজুড়ে জনরোষের মধ্যেও Z ২৪ ঘণ্টা নামক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমসহ ভারতের বহু প্রভাবশালী মিডিয়া এ বিষয়ে কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশের একজন রাজনৈতিক মুখপাত্রের হত্যাকাণ্ড, ঘাতকের পলায়ন কিংবা দেশব্যাপী প্রতিবাদের খবর ভারতীয় মূলধারার গণমাধ্যমে উল্লেখযোগ্যভাবে স্থান পায়নি।

তবে নীরবতার পাশাপাশি ভারতীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে নতুন এক বিতর্কিত প্রচারে নেমেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা বাংলাদেশের জুলাই যোদ্ধা ও তরুণ নেতৃত্বকে ‘পাক-দালাল’ আখ্যা দিয়ে উসকানিমূলক পোস্ট ও শিরোনাম প্রকাশ করছে।

ভারতীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া শিরোনাম ও পোস্টের মধ্যে রয়েছে—
‘ভারতের মুণ্ড কেটে রেখে দেব!’
‘বাংলাদেশের পাক-দালাল কচি নেতাদের হুংকার’
‘ঢাকায় বন্ধ ২ ভিসা সেন্টার’

এসব শিরোনাম ও বক্তব্যকে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উসকানি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাকে আড়াল করে বাংলাদেশের তরুণ আন্দোলন ও জুলাই যোদ্ধাদের বিতর্কিতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

সমালোচকদের দাবি, এ ধরনের প্রচার দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও তা উদ্বেগজনক। বাস্তব তথ্য যাচাই ছাড়াই এমন আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।

এদিকে, বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলমান রয়েছে এবং দোষীদের যেখানেই পাওয়া যাবে, আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে বিরত থাকতে দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংকটময় সময়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনই পারে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে; অন্যথায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার ও উসকানি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বিজ্ঞাপন