• রবিবার , ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাশিয়ার ‘অ্যাকশন’, যুক্তরাষ্ট্রের তাড়া করা তেল ট্যাংকার পাহারায় পাঠাচ্ছে যুদ্ধজাহাজ!

রাশিয়ার ‘অ্যাকশন’, যুক্তরাষ্ট্রের তাড়া করা তেল ট্যাংকার পাহারায় পাঠাচ্ছে যুদ্ধজাহাজ!

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:০৭ ৭ জানুয়ারী ২০২৬

আটলান্টিক মহাসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন বাহিনীর তৎপরতার মুখে ট্যাংকারটিকে পাহারা দিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে রাশিয়া। সিবিএস নিউজের বরাতে বিবিসি জানায়, বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্যাংকারটি বর্তমানে কোনো পণ্য বহন না করলেও অতীতে এটি ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হতো। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে জাহাজটি স্কটল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের মাঝামাঝি উত্তাল সমুদ্র এলাকায় অবস্থান করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বাড়তে থাকায় রাশিয়া বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে।

ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে যেসব জাহাজ দেশটিতে যাতায়াত করছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে গত মাসে ‘নৌ অবরোধ’ জারির নির্দেশ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তকে ভেনেজুয়েলা সরকার সরাসরি ‘চুরি’ বলে আখ্যা দেয়। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার সরকার জাহাজ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারে জড়িত—যা ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থানের অন্যতম কারণ।

এর আগে গত মাসে ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন কোস্ট গার্ড ‘বেলা ১’ নামের একটি জাহাজে তল্লাশির চেষ্টা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ইরানি তেল পরিবহন করেছে। তবে তল্লাশি ব্যর্থ হওয়ার পর জাহাজটি হঠাৎ করেই গতিপথ পরিবর্তন করে এবং নাম বদলে ‘মারিনেরা’ রাখে। একই সঙ্গে এটি গায়ানা থেকে রাশিয়ার পতাকায় পুনঃনিবন্ধিত হয় বলে জানা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

ইউরোপের দিকে যাত্রাকালে জাহাজটির আশপাশে প্রায় ১০টি মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমান ও একাধিক হেলিকপ্টারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এই দৃশ্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা জাহাজটিকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি ‘উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ’ করছে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

সিবিএস নিউজকে দেওয়া তথ্যে দু’জন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী জাহাজটি আটক করে দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তারা এটিকে ডুবিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে জব্দ করতে আগ্রহী। এদিকে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তাদের নৌবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তবে খারাপ আবহাওয়া ও দীর্ঘ দূরত্বের কারণে স্কটল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের মাঝামাঝি এলাকায় সরাসরি অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনার আগে ওয়াশিংটনকে লন্ডনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করতে হবে, যা কৌশলগত জটিলতা আরও বাড়াচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত মাসেই যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের অভিযানে ভেনেজুয়েলার একটি বন্দর ছাড়ার পর ‘দ্য স্কিপার’ নামের আরেকটি তেল ট্যাংকার জব্দ করেছিল। ওই অভিযানে মার্কিন কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি মেরিন ও বিশেষ বাহিনী অংশ নেয়। সাম্প্রতিক এই ঘটনা প্রমাণ করছে, সমুদ্রপথে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মুখোমুখি অবস্থান ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞাপন