• রবিবার , ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় পর্যটকদের জন্য কড়াকড়ি—বাংলাদেশের ভিসা নীতিতে বড় সীমাবদ্ধতা

ভারতীয় পর্যটকদের জন্য কড়াকড়ি—বাংলাদেশের ভিসা নীতিতে বড় সীমাবদ্ধতা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭:২৬ ৮ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশ ভ্রমণে নতুন করে দুঃসংবাদ এলো। কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশের উপদূতাবাসগুলো থেকে ভারতীয় পর্যটকদের জন্য পর্যটক ভিসা প্রদান কার্যক্রম ‘সীমিত’ করা হয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিক পর্যটন উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী বহু ভারতীয় নাগরিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।

জানা গেছে, এর আগেই দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস এবং আগরতলার অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনারের দপ্তর থেকে ভিসা প্রদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে শুধু গুয়াহাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশের অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনারের দপ্তর থেকেই ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সীমিত পরিসরে ভিসা দেওয়া হচ্ছে।

যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি, তবে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপদূতাবাসের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে বুধবার থেকেই পর্যটক ভিসা প্রদান কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যটক ভিসায় কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও বাণিজ্যিক ভিসাসহ অন্যান্য ক্যাটাগরির ভিসা প্রদান কার্যক্রম চালু থাকবে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে অবস্থিত চারটি ভারতীয় ভিসা সেন্টারে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একই সময় ঢাকায় ভারতীয় ভিসা সেন্টারের সামনেও বিক্ষোভ হয়, যা দুই দেশের ভিসা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে।

এই পরিস্থিতির জেরে ভারত সরকার প্রথমে কয়েকদিন সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রাখে। পরে ভিসা সেন্টারগুলো পুনরায় চালু হলেও ভারত জানিয়ে দেয়, মেডিকেল ভিসা ও কিছু জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটকসহ অন্যান্য ভিসা আপাতত ইস্যু করা হবে না।

বর্তমানে সেই সিদ্ধান্ত আরও কঠোর আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় পর্যটক ভিসা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর পাল্টা প্রভাব হিসেবেই এবার বাংলাদেশও ভারতীয় নাগরিকদের পর্যটক ভিসা প্রদানে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ভিসা কার্যক্রমে এই সীমাবদ্ধতা সাধারণ ভ্রমণকারী, পর্যটন খাত ও দ্বিপাক্ষিক মানুষের যোগাযোগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন