• সোমবার , ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের রাজপথ উত্তাল, রাশিয়া পালানোর প্রস্তুতি খামেনির!

ইরানের রাজপথ উত্তাল, রাশিয়া পালানোর প্রস্তুতি খামেনির!

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:৩৩ ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে চলমান তীব্র সরকারবিরোধী গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যকর জল্পনা ছড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে খামেনি রাশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। একই সঙ্গে শাসকগোষ্ঠীর একাধিক উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা পরিবারের সদস্যদের জন্য ফরাসি ভিসা সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও গুঞ্জন উঠেছে।

টানা ১৩ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে তেহরান থেকে শুরু করে ধর্মীয় নগরী কোম পর্যন্ত রাজপথে শোনা যাচ্ছে— ‘পাহলভি ফিরে আসবেন’ এবং ‘জাভিদ শাহ’ (রাজা দীর্ঘজীবী হোক) স্লোগান। এসব স্লোগানের মধ্য দিয়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ইরানের সাবেক যুবরাজ রেজা পাহলভি।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর মাত্র ১৭ বছর বয়সে দেশত্যাগ করা রেজা পাহলভি বর্তমানে প্রবাস থেকেই সরকারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন। চার দশকের বেশি সময় পর তার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন বাস্তবসম্মত কি না, নাকি এটি কেবল একটি অংশের নস্টালজিয়ায় সীমাবদ্ধ— সেই প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ যখন চরমে, তখন রেজা পাহলভি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিজেকে একটি ঐক্যবদ্ধ পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে বলেছেন, পরিবর্তন আসতে হবে ইরানের ভেতর থেকেই। পাশাপাশি তিনি বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতাও স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তবে পাহলভির প্রকৃত জনসমর্থন নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, তার প্রতি সমর্থন ৮০ শতাংশেরও বেশি। অন্যদিকে, জার্মানভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘গামান’-এর তথ্য অনুযায়ী এই সমর্থন প্রায় ৩৫ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, এই হার উল্লেখযোগ্য হলেও প্রশ্ন থেকে যায়— দীর্ঘ সময়েও তিনি কেন বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে সক্ষম হননি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তিনি ইরানি জনগণের প্রতি সমর্থন জানালেও এবং রেজা পাহলভিকে ‘ভালো মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করলেও, তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকে ‘অসমীচীন’ বলে এড়িয়ে গেছেন। ট্রাম্পের মতে, পরিবর্তনের পর কে নেতৃত্বে আসবেন, তা পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনি প্রশাসনের পতন ঘটলেও বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ও বাসিজ মিলিশিয়ার মতো শক্তিশালী কাঠামো পাহলভির প্রত্যাবর্তনকে সহজভাবে মেনে নেবে— এমন নিশ্চয়তা নেই। ফলে শেষ পর্যন্ত রেজা পাহলভি কি কেবল অতীতের স্মৃতিচিহ্ন হয়েই থাকবেন, নাকি ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন— তা নির্ভর করছে রাজপথের আন্দোলন এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির গতিপথের ওপর।

সূত্র: দি টাইমস

বিজ্ঞাপন