ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপি–জামায়াত জোটের মুখোমুখি লড়াই, তরুণ ভোটার ও অর্থনীতিই হতে পারে ফল নির্ধারক


প্রকাশিত: ০১:৫৬ ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে যেসব নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন বা সীমিত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবারের ভোটকে অনেকেই ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখছেন। ২০০৯ সালের পর এই প্রথম একটি প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষ করে ২০২৪ সালের আন্দোলনে সক্রিয় তরুণ ভোটাররা। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি পাল্টে গেছে। অন্যদিকে বিএনপি প্রায় পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে। দলটি ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রার্থী দিয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন নিয়ে তারা আশাবাদী। তবে তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসলামপন্থী জামায়াত ও তাদের মিত্র শক্তি।
রয়টার্সের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটও এবারের নির্বাচনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের একটি রাজনৈতিক শক্তি—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় তরুণ ভোটের একটি অংশ তাদের দিকে ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই জেনারেশন জেড ভোটাররাই নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারেন।
ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের গবেষক পারভেজ করিম আব্বাসি রয়টার্সকে বলেন, বিভিন্ন জরিপে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও এখনো একটি বড় অংশের ভোটার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি বলেন, “তরুণ ভোটাররা যেদিকে ঝুঁকবে, ফলাফল অনেকটাই সেদিকে যাবে।” তার মতে, ভোটের ফল দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পথনির্দেশ করবে।
রাজধানীসহ দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচারণার চিত্রেও বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যেখানে আগের নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক প্রাধান্য পেত, এবার সেখানে বিএনপির ধানের শীষ ও জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার পোস্টার চোখে পড়ছে বেশি। দলীয় কার্যালয়গুলোতে নির্বাচনী গান বাজছে, রাস্তাঘাটে আলোচনা চলছে ভোট নিয়ে—যা আগের নির্বাচনী পরিবেশের সঙ্গে স্পষ্টভাবে ভিন্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের প্রতি ভোটারদের আগ্রহ কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নয়; বরং দলটির তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে। জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ভোটাররা ধর্মীয় বা প্রতীকী বিষয় নয়, বরং দুর্নীতি দমন, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং কর্মসংস্থানের মতো ইস্যুকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তরুণ ভোটারদের প্রত্যাশাও এবারের নির্বাচনে একটি বড় বিষয়। প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া ২১ বছর বয়সী মোহাম্মদ রাকিব রয়টার্সকে বলেন, “আগে ভোট দেওয়া বা নিজের মত প্রকাশ করা সহজ ছিল না। এবার আমরা আশা করছি, নতুন সরকার এই অধিকারগুলো নিশ্চিত করবে।” এমন অনুভূতি অনেক তরুণের মধ্যেই ছড়িয়ে আছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির ক্ষেত্রেও এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শেখ হাসিনার ক্ষমতা হারানোর পর দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাব কিছুটা কমেছে এবং চীনের উপস্থিতি বেড়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে ভারতের সঙ্গে তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকার হলে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হতে পারে—যদিও জামায়াত দাবি করছে, তারা কোনো দেশের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট নীতি অনুসরণ করবে না।
অর্থনৈতিক চাপও এবারের নির্বাচনের পটভূমিতে বড় ভূমিকা রাখছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ ২০২২ সালের পর থেকে বড় ধরনের বিদেশি অর্থায়নের প্রয়োজন অনুভব করছে। বিশ্লেষকদের মতে, একটি স্থিতিশীল ও বিশ্বাসযোগ্য সরকার গঠনই পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ তৈরি করতে।
সব মিলিয়ে, রাজনীতি, অর্থনীতি, তরুণ ভোটারদের ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক প্রভাব—সব দিক থেকেই এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। নির্বাচন শেষে কার্যকর ও স্থিতিশীল সরকার গঠিত হলে তা দেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার ভিত্তি গড়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - রাজনীতি
- অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পেতেই জামায়াত জোটে আসিফ: রাশেদ খাঁন
- দেশে ফিরেই আওয়ামী লীগকে লজ্জার রাজনীতি না করার বার্তা বাঁধনের
- জামানত ছাড়াই ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, পাবেন যেসব তরুণ উদ্যোক্তা
- নাকভির হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ার কারণ জানাল ভারত
- দোতলা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করছে উত্তর কোরিয়া
- উত্তরা থেকে জামালপুর আওয়ামী লীগ নেতা শাহীনুজ্জামান গ্রেপ্তার
- ডেভিড ইমনের সহযোগী ‘ডাবা হারুন’ গ্রেপ্তার
- যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য সরকারের
- ১০ মাস পর ঢাকায় ফিরছে কাভিশ, সঙ্গে শিরোনামহীন ও মেঘদল
- ইসলামের নামে যারা সমাজে ঘৃণা ছড়ায়, তারা সর্বোচ্চ মাসুদ হওয়ার যোগ্য
- রাজ্জাক দেওয়ান স্মরণে গাইবেন বগা তালেবসহ ১৫ শিল্পী
- মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির
- টেস্টোস্টেরন পরীক্ষায় কি লিঙ্গ নির্ধারণ সম্ভব? জানুন বিজ্ঞান কী বলে
- ভারতে ‘ভূত আতঙ্কে’ হোস্টেল ছাড়ল ৬০০ শিক্ষার্থী, চিকিৎসকদের ভিন্ন ব্যাখ্যা
- হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইরান
- ডা. তাসনিম জারা: শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও রাজনীতি
- এনবিআর ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
- ফের ‘জান্নাত’ নিয়ে আসছেন ইমরান হাশমি, আসছে ‘জান্নাত ৩’
- পাকিস্তানের হাসপাতালে এসি বিস্ফোরণ, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু
- আখ চাষে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য, খুলছে বাড়তি আয়ের পথ




