• সোমবার , ২০ এপ্রিল, ২০২৬ | ৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফল আজকের আধুনিক পুঁজিবাজার

খালেদা জিয়ার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফল আজকের আধুনিক পুঁজিবাজার

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৫৩ ৯ জানুয়ারী ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী ও সাহসী সিদ্ধান্তের ফলেই আজকের আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজিবাজার গড়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)-এর সভাপতি সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শাসনামলেই দেশের পুঁজিবাজারে একটি নতুন যুগের সূচনা হয়, যার সুফল আজও অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) খালেদা জিয়ার স্মরণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিবিএ’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাইফুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন একজন মানবিক ও সহনশীল রাজনীতিবিদ, যিনি বিরোধী মত ও ভিন্নমতের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে, বিশেষ করে গত ১৫ বছরের নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দেশ ও জনগণের স্বার্থে অবিচল থেকেছেন এবং জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্র রক্ষায় আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯১ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেট উন্মুক্ত করে দেওয়ার মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া পুঁজিবাজার উন্নয়নে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন। এই দূরদর্শী পদক্ষেপই আজকের আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজিবাজারের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। বক্তৃতার শেষে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

স্মরণসভায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি)-এর প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুর রহমানের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বেসরকারি খাতভিত্তিক উন্নয়ন কাঠামো গঠনে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ছিল অনন্য ও অসামান্য। ১৯৯১ সাল থেকে বেসরকারি খাতে যে ব্যাপক সম্প্রসারণ শুরু হয়, তার সুফল আজ দেশের সাধারণ মানুষ ভোগ করছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতেও তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন দৃঢ় ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। তার সরকারের সময় ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গঠিত হয়, যা দেশের পুঁজিবাজারকে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, একজন মানুষের জীবনের প্রকৃত মূল্য সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পায় তার মৃত্যুর পর মানুষের আবেগ ও উপস্থিতির মধ্য দিয়ে। বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় কোটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, তিনি কতটা গভীরভাবে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন—যা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্ববাসীর জন্যও একটি বিরল দৃষ্টান্ত।

বিএপিএলসির প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন প্রধানমন্ত্রী বা রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না; সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের সমাজ ও সামাজিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছেন। তিনি বলেন, একজন মানুষ হিসেবে তার যেমন গুণ ছিল, তেমনি কিছু সীমাবদ্ধতাও ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে তার প্রতি যে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, তা প্রমাণ করে—সব সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভাতিজা মো. শামস ইস্কান্দার পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে মরহুমার জন্য দোয়া কামনা করেন।

 

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/