• সোমবার , ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত এক দখলদার দানব: সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি

যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত এক দখলদার দানব: সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:২৯ ৩১ অক্টোবর ২০২৫

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেন্টাগনকে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি “পশ্চাদমুখী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত এক দখলদার দানব’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিরক্ষা দপ্তরকে নির্দেশ দেন পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা পুনরায় শুরু করতে। ট্রাম্পের দাবি, অন্যান্য দেশ পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে বলে যুক্তরাষ্ট্রকেও প্রতিরক্ষার ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। তবে ইরান এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি বলে সতর্ক করেছে।

আঙ্কারা থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, “ওয়াশিংটন তাদের প্রতিরক্ষা বিভাগকে এখন ‘যুদ্ধ বিভাগে’ রূপান্তরিত করেছে। এটি তাদের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করে। এই দখলদার রাষ্ট্রই ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং আমাদের সুরক্ষিত স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকি দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।”

তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। এটি শুধু বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকেই হুমকির মুখে ফেলবে না, বরং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের নতুন এক অধ্যায় শুরু করবে।”

আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিচারিতার দিকটিও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, “একদিকে ওয়াশিংটন ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, অন্যদিকে নিজেরাই পারমাণবিক পরীক্ষা চালাচ্ছে— যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি।”

এর আগে বুধবার ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, “অন্য দেশগুলোর পারমাণবিক পরীক্ষার কারণে আমি প্রতিরক্ষা দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছি যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষামূলক কর্মসূচিও শুরু করতে।” তিনি আরও দাবি করেন, “আমাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বিশ্বের সবচেয়ে বড়, রাশিয়া দ্বিতীয় এবং চীন অনেক পিছিয়ে রয়েছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কেবল ইরান নয়, বরং রাশিয়া ও চীনের সঙ্গেও নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছে, বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন