• সোমবার , ২০ এপ্রিল, ২০২৬ | ৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতে হতে পারে স্টিভেন জনসন সিনড্রোম !

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতে হতে পারে স্টিভেন জনসন সিনড্রোম !

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১৩ ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টিভেন জনসন সিনড্রোম (SJS) একটি বিরল কিন্তু মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা, যা সাধারণত কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে দেখা দেয়। প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৫ জনের ক্ষেত্রে এই অসুখ হতে পারে।

ডা. আফলাতুন আকতার জাহানজুনিয়র, ইন্টার্নাল মেডিসিন বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা, জানিয়েছেন, স্টিভেন জনসন সিনড্রোম হলো একধরনের হাইপারসেনসিটিভিটি বা অতিসংবেদনশীলতা, যা ত্বক, মুখগহ্বর, চোখ, অন্ত্র ও শ্বাসনালির ক্ষতি করতে পারে। ত্বকের বাইরের স্তর নষ্ট হলে সংক্রমণ ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং এমন পরিস্থিতিতে সেপসিসের মতো প্রাণঘাতী অবস্থা তৈরি হতে পারে।

ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ:
যেকোনো ওষুধে SJS হতে পারে, তবে সাধারণত যেসব ওষুধে বেশি দেখা যায়—

গাউট বা গেঁটেবাতের ওষুধ: অ্যালোপিউরিনল

খিঁচুনির ওষুধ: কার্বামাজেপিন, ফিনাইটোইন, ফেনোবারবিটাল, ল্যামোট্রিজিন

কিছু অ্যান্টিবায়োটিক: কোট্রাইমক্সাজল

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ওষুধ: সালফাসালাজিন

ব্যথানাশক: মেলোক্সিকাম ও পাইরোক্সিকাম

লক্ষণসমূহ:
SJS সাধারণত ওষুধ সেবনের প্রথম ৮ সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয় এবং প্রাথমিকভাবে ফ্লুর মতো উপসর্গ তৈরি হয়। এর মধ্যে রয়েছে—

তীব্র জ্বর, ক্লান্তি, গায়ে ব্যথা

ত্বক লাল হয়ে ফোসকা পড়া ও মৃত কোষের মতো খসে পড়া

মুখ, ঠোঁট ও যৌনাঙ্গে যন্ত্রণাদায়ক ক্ষত

চোখে লালচে ভাব, পানি পড়া ও জ্বালা

শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ার মতো ইনফেকশন

চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা:
SJS একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি। চিকিৎসা তৎক্ষণাত শুরু করতে হবে।

ওষুধ বন্ধ করা: সন্দেহজনক ওষুধ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

হাসপাতালে ভর্তি: আইসিইউ বা বার্ন ইউনিটে বিশেষ যত্ন।

সাপোর্টিভ কেয়ার: মৃত কোষ পরিষ্কার, ব্যথা কমানো, সংক্রমণ রোধে অ্যান্টিবায়োটিক, পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইট সমন্বয়।

গুরুতর ক্ষেত্রে ত্বক প্রতিস্থাপন (স্কিন গ্রাফটিং) প্রয়োজন হতে পারে।

সতর্কতা ও করণীয়:

সমস্যা দেখা দেয়ার পর ওষুধ পুনঃসেবন না করা।

মেডিকেল অ্যালার্ট ব্রেসলেট বা কার্ড ব্যবহার করা।

পরবর্তী চিকিৎসককে SJS ইতিহাস জানানো।

নিজে নিজে চিকিৎসা না করা।

ডা. আফলাতুন জানান, সুস্থ হতে সাধারণত ২–৪ সপ্তাহ সময় লাগে। তাই এই রোগে আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও তৎপর মনোযোগ অপরিহার্য।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/