• সোমবার , ২০ এপ্রিল, ২০২৬ | ৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায় যেসব খাবার— এখনই জানুন, নইলে বাড়বে ব্যথা ও গিঁটের সমস্যা

ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায় যেসব খাবার— এখনই জানুন, নইলে বাড়বে ব্যথা ও গিঁটের সমস্যা

সজিব হোসেন: মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
সজিব হোসেন: মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:০৮ ২০ জানুয়ারী ২০২৬

ইউরিক অ্যাসিড কোনো স্থায়ী বা আজীবনের রোগ নয়; বরং এটি মূলত জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের ভারসাম্যহীনতার ফল। অনিয়ন্ত্রিত খাওয়া-দাওয়া, পর্যাপ্ত পানি না পান করা এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব—এই তিনটি কারণেই শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে এবং নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করলে এই সমস্যাকে সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বর্তমানে অনেক মানুষই ইউরিক অ্যাসিডজনিত সমস্যায় ভুগছেন। রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে হাড়ের জয়েন্টে তীব্র ব্যথা, ফোলাভাব, লালচে ভাব এবং দীর্ঘদিন অবহেলা করলে গেঁটে বাতের মতো জটিল রোগ দেখা দিতে পারে। মূলত আমাদের খাদ্যতালিকায় থাকা ‘পিউরিন’ নামক উপাদান ভেঙে শরীরে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। তাই এই সমস্যায় ওষুধের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—উচ্চ পিউরিনযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা।

লাল মাংস ও অরগান মাংস
ইউরিক অ্যাসিডের রোগীদের জন্য লাল মাংস সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খাবারগুলোর একটি। খাসির মাংস, গরুর মাংস বা অন্যান্য রেড মিটে প্রচুর পরিমাণে পিউরিন থাকে। এর পাশাপাশি প্রাণীর কলিজা, মগজ, কিডনি ও হার্টের মতো অরগান মাংসে পিউরিনের মাত্রা আরও বেশি। এসব খাবার নিয়মিত খেলে রক্তে ইউরিক অ্যাসিড দ্রুত বেড়ে যায় এবং বিশেষ করে পায়ের আঙুল, গোড়ালি ও হাঁটুতে তীব্র ব্যথা শুরু হয়।

অ্যালকোহল ও ধূমপান
অ্যালকোহল ইউরিক অ্যাসিড সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। এটি শরীরে পানিশূন্যতা সৃষ্টি করে এবং কিডনির মাধ্যমে ইউরিক অ্যাসিড বের হয়ে যাওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড রক্তে জমে গিয়ে হাড়ের সন্ধিস্থলে স্ফটিক আকারে জমা হয়। ধূমপানও শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা ব্যথা ও প্রদাহ বাড়াতে পারে।

চিনিযুক্ত পানীয় ও ফ্রুক্টোজসমৃদ্ধ খাবার
অতিরিক্ত চিনি দেওয়া খাবার ইউরিক অ্যাসিডের রোগীদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। মিষ্টি, কেক, পেস্ট্রি, চিনিযুক্ত চা-কফি ছাড়াও সোডা, কোল্ড ড্রিঙ্কস ও প্যাকেটজাত ফলের রসে প্রচুর পরিমাণে ফ্রুক্টোজ থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্রুক্টোজ শরীরে ইউরিক অ্যাসিড উৎপাদনের হার বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত এসব পানীয় গ্রহণ করলে ব্যথা ও ফোলাভাব বেড়ে যেতে পারে।

সামুদ্রিক মাছ ও নির্দিষ্ট কিছু মাছ
সামুদ্রিক মাছ সাধারণভাবে স্বাস্থ্যকর হলেও ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কিছু মাছ এড়িয়ে চলা জরুরি। যেমন—ইলিশ, চিংড়ি, সার্ডিন, ম্যাকেরেল ও টুনা মাছ। এসব মাছে পিউরিনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। এর পরিবর্তে নদীর ছোট মাছ, রুই বা কাতলার মতো তুলনামূলক কম পিউরিনযুক্ত মাছ বেছে নেওয়াই ভালো।

নির্দিষ্ট কিছু সবজি ও ডাল
সবজি সাধারণত স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও কিছু সবজিতে মাঝারি মাত্রার পিউরিন থাকে। পালংশাক, পুঁই শাক, ফুলকপি ও মাশরুম অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে পারে। একইভাবে মসুর ডাল ও বিউলির ডাল বেশি পরিমাণে খেলে ব্যথা বাড়ার ঝুঁকি থাকে। তবে এগুলো সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই—পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

সবশেষে বলা যায়, ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে খাবারের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান, উচ্চ পিউরিনযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত হালকা ব্যায়াম—এই তিনটি অভ্যাসই আপনাকে ইউরিক অ্যাসিডজনিত ব্যথা ও জটিলতা থেকে অনেকটাই মুক্ত রাখতে পারে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/