যে কৌশলে গ্রেফতার হলেন কুখ্যাত সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন

বাংলাদেশের অপরাধ জগতের ইতিহাসে একটি ভয়ংকর নাম হলো সুব্রত বাইন। হত্যা, অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও অপহরণের মতো অপরাধে তার বিরুদ্ধে রয়েছে ৪৫টিরও বেশি মামলা। ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে সে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় নৃশংস অপরাধ চালিয়ে বেড়িয়েছে। ২০০৪ সালের পর সে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকে।
তবে অবশেষে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এই কুখ্যাত অপরাধীকে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস ও কৌশলী অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৭ মে, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে কুষ্টিয়ার কালীশংকরপুর এলাকার সোনার বাংলা মসজিদের পাশের একটি বাড়ি থেকে সেনাবাহিনী তাকে তার এক সহযোগীসহ আটক করে।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৫টা থেকে শুরু হয় এই অভিযান, যা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনীর সশস্ত্র ইউনিট, এবং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বাড়িটি নজরদারির মধ্যে আনা হয়। অভিযানে ব্যবহৃত হয় আধুনিক প্রযুক্তি—ড্রোন, নাইট ভিশন ক্যামেরা এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিউনিকেশন ডিভাইস।
জানা গেছে, সুব্রত বাইন ২০০৪ সালের পর ভারত, নেপালসহ বিভিন্ন দেশে ভুয়া পরিচয়ে আত্মগোপনে ছিল। ২০২৩ সালের শেষদিকে সে আবার বাংলাদেশে ফিরে আসে এবং ছদ্মবেশে কুষ্টিয়ায় আশ্রয় নেয়। একাধিকবার সে স্থান পরিবর্তন করেও গা-ঢাকা দিয়ে ছিল, কিন্তু সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা নজর এড়াতে পারেনি।
স্থানীয়রা জানান, ভোর থেকে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এরপর জানা যায়, এই এলাকায় ভয়ংকর এক সন্ত্রাসী আত্মগোপনে রয়েছে।
অভিযানে সেনাবাহিনীর কমান্ডো ইউনিট ও ইন্টেলিজেন্স শাখার সমন্বয় ছিল অত্যন্ত সফল। কোনো প্রকার গুলি বিনিময় ছাড়াই সুব্রত বাইনকে আটক করা সম্ভব হয়। এরপর তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তার সহযোগীকে র্যাব ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, সুব্রত বাইন শুধু একজন সন্ত্রাসী নন—তিনি ছিলেন একটি বড় অপরাধ চক্রের সংগঠক ও রাজনৈতিক আশ্রয়ে গড়ে ওঠা সহিংস গোষ্ঠীর মূল কৌশলকারী। তার গ্রেফতার দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য এবং ভবিষ্যতে অপরাধ চক্র ভাঙার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অর্থপাচার ও রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও অনুসন্ধান চলছে। দেশবাসী আশাবাদী যে, সুব্রত বাইনের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে দেশের অপরাধ জগতের এক ভয়ংকর অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - জাতীয়
- কারাগারেই জন্ম, ৭ বছর পর মায়ের হাত ধরে মুক্ত মোবাশ্বেরা
- জিন্নাহ-শেখ মুজিব সম্পর্কের অজানা অধ্যায়, কী হয়েছিল ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে?
- প্রাক্তনকে বারবার মনে পড়ছে? যেসব উপায়ে ভুলতে পারবেন
- নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে চলবে বৈদ্যুতিক ট্রেন, ব্যয় ৩৮২২ কোটি
- আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানি মামলার হুঁশিয়ারি ফরিদা ইয়াসমিনের
- আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবার মাঠে নামতে যাচ্ছেন মেসি
- হুথি সংকট মোকাবিলায় ইসরায়েলের গোয়েন্দা সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব: প্রতিবেদন
- একনেক সভায় ৬৫ হাজার কোটি টাকার ১৬ প্রকল্প, মেট্রোরেলেই ৪৫ হাজার কোটি
- কারাগারেই মায়ের আদ্যশ্রাদ্ধ করতে চান চিন্ময় কৃষ্ণ দাস
- বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ ছাড়ছেন সালমান এফ রহমান
- রাজ্জাক দেওয়ান স্মরণে গাইবেন বগা তালেবসহ ১৫ শিল্পী
- মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির
- ডা. তাসনিম জারা: শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও রাজনীতি
- হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইরান
- আখ চাষে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য, খুলছে বাড়তি আয়ের পথ
- এনবিআর ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
- পাকিস্তানের হাসপাতালে এসি বিস্ফোরণ, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু
- অকালে হারানো বাংলা চলচ্চিত্রের চিরসবুজ মহানায়ক সালমান শাহ
- দেশজুড়ে আরও পাঁচ দিন টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস
- শরীফুলের বোলিংয়ে মুগ্ধ অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক





