• বৃহস্পতিবার , ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ, মেগা প্রকল্প নিয়ে যা বললেন শিবির সভাপতি

২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ, মেগা প্রকল্প নিয়ে যা বললেন শিবির সভাপতি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:২২ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিগত সরকারের সময়ে বড় বড় মেগা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তার দাবি, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অবৈধ অর্থপ্রবাহ ঘটেছে।

বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ নগরীর শিল্পকলা একাডেমিতে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, বড় প্রকল্পের নামে বড় অঙ্কের দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাট হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষ্য, মেগা প্রকল্পে ব্যয়ের আকার বড় হওয়ায় সেখানে দুর্নীতির সুযোগও বেশি তৈরি হয়েছে। এটি তার রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ; নির্দিষ্ট প্রতিটি মেগা প্রকল্প থেকে কত অর্থ পাচার হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি আলাদা কোনো হিসাব উপস্থাপন করেননি।

২৩৪ বিলিয়ন ডলারের যে অঙ্ক তিনি উল্লেখ করেন, সেটির উৎস ২০২৪ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে প্রস্তুত করা শ্বেতপত্র। ওই প্রতিবেদনে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মোট অবৈধ আর্থিক বহিঃপ্রবাহ প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে অনুমান করা হয়। বার্ষিক গড় হিসেবে এর পরিমাণ প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার।

তবে শ্বেতপত্রের এই ২৩৪ বিলিয়ন ডলারকে শুধু মেগা প্রকল্প থেকে পাচার হওয়া অর্থ হিসেবে দেখানো হয়নি। প্রতিবেদনে গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির তথ্য ও নির্দিষ্ট কিছু অনুমানের ভিত্তিতে সামগ্রিক অবৈধ অর্থপ্রবাহের হিসাব করা হয়েছে। বাণিজ্যে মূল্য কারসাজি, আর্থিক খাতের অনিয়ম এবং বিভিন্ন ধরনের অবৈধ লেনদেনকে এর সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

শ্বেতপত্র অনুযায়ী, এই সময়কালে বছরে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা সমপরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে দেশের বাইরে গেছে বলে অনুমান করা হয়। ওই গড় অঙ্ক বাংলাদেশের বর্তমান জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশের সমান বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিবির সভাপতি তার বক্তব্যে দাবি করেন, পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ দিয়েই দেশে একাধিক পদ্মা সেতুর মতো বড় অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব হতো। তবে এটি তার দেওয়া তুলনা; অর্থনীতিবিষয়ক শ্বেতপত্রে ২৩৪ বিলিয়ন ডলারের সঙ্গে পদ্মা সেতুর সংখ্যার এমন তুলনা করা হয়নি।

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়েও কথা বলেন। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তি নিজেদের সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনা করান এবং চিকিৎসার জন্যও বিদেশমুখী হন। দেশের জনপ্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের মতো সরকারি সেবা গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়নে চাপ বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশে মেধার সংকটের চেয়ে সততা ও দেশপ্রেমের সংকট বড়। তরুণদের শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলারের অবৈধ অর্থপ্রবাহের হিসাবটি পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদেও আলোচিত হয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে শ্বেতপত্রের তথ্য উদ্ধৃত করে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে দেশের বাইরে গেছে এবং অর্থ উদ্ধারে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময় ও আইনি সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ চলছে।

অর্থাৎ ২৩৪ বিলিয়ন ডলারের অঙ্কটি একটি সরকারি উদ্যোগে প্রস্তুত অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রে থাকা অনুমান হলেও পুরো অর্থ মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে পাচার হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত ওই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। মেগা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে অর্থ পাচারের বক্তব্যটি ছাত্রশিবির সভাপতির রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই এসেছে।

বিজ্ঞাপন