• সোমবার , ২০ এপ্রিল, ২০২৬ | ৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শীতের তীব্রতায় নাকাল তেঁতুলিয়া, প্রয়োজনের তুলনায় কম শীতবস্ত্র

শীতের তীব্রতায় নাকাল তেঁতুলিয়া, প্রয়োজনের তুলনায় কম শীতবস্ত্র

খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি
খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৫:৩২ ৭ জানুয়ারী ২০২৬

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গতকালের তুলনায় এক ডিগ্রি কম। এর আগের দিন মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা কখনো ১০, কখনো ১৫ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করলেও হঠাৎ করে ফের তীব্র শীত জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছে।

পঞ্চগড়সহ আশপাশের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘন কুয়াশা। টানা দুই দিন সূর্যের দেখা না মিললেও বুধবার কিছু সময়ের জন্য সূর্যের মুখ দেখা গেছে। তবে কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

শীতের প্রকোপ বাড়লেও এখনো শীতার্ত মানুষের মধ্যে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ চোখে পড়েনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারিভাবে যে পরিমাণ শীতবস্ত্র বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। ফলে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষজন শীত নিবারণের জন্য চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। ঠান্ডার কারণে দিনমজুরসহ সাধারণ মানুষ ঠিকমতো কাজকর্ম করতে পারছেন না।

চিকিৎসকদের মতে, শীতজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি ভুগছে শিশু ও বয়স্করা। ঠান্ডাজনিত জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও মহাসড়কে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় জানান, বুধবার সকালে তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা গতকালের তুলনায় ১ ডিগ্রি কম। তাপমাত্রা এভাবে আরও কমতে থাকলে আগামী কয়েক দিন শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আফরোজ শাহীন খসরু জানান, সরকারিভাবে যে পরিমাণ শীতবস্ত্র বরাদ্দ পাওয়া গেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তিনি সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও বিভিন্ন এনজিওকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

তেঁতুলিয়া হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাকিল রহমান বলেন, শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে। গরম কাপড় ব্যবহারের পাশাপাশি শীতজনিত কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

পঞ্চগড় জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসিফ আলী জানান, জেলায় শীতার্ত মানুষের জন্য ২১ হাজার ১৪০ পিস কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা ইতোমধ্যে পাঁচটি উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়তি শীতবস্ত্রের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম জানান, তেঁতুলিয়ায় ৭টি ইউনিয়নের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে সরকারিভাবে কম্বল বিতরণের জন্য বরাদ্দ পাঠানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষজন শীতবস্ত্র পাওয়ার জন্য প্রভাবশালীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মনছুর আলী জানান, তার ইউনিয়নে সরকারিভাবে মোট ২২৬টি কম্বল পাওয়া গেছে, যা ইউনিয়নের জনসংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত কম। ফলে সবাইকে শীতবস্ত্র দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি জানান।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/