• বুধবার , ২২ এপ্রিল, ২০২৬ | ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কানাডাকে এক বছরের মধ্যেই ‘গ্রাস’ করবে চীন: ট্রাম্প

কানাডাকে এক বছরের মধ্যেই ‘গ্রাস’ করবে চীন: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৩২ ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডে প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্প প্রত্যাখ্যান করায় কানাডার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর বদলে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বেছে নিলে এক বছরের মধ্যেই বেইজিং কানাডাকে ‘খেয়ে ফেলতে’ পারে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, গ্রিনল্যান্ডে ‘দ্য গোল্ডেন ডোম’ নির্মাণের বিরোধিতা করেছে কানাডা, যদিও এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশটির জন্যও সুরক্ষা নিশ্চিত করত। এর পরিবর্তে তারা চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে—যে দেশ প্রথম বছরের মধ্যেই কানাডাকে গ্রাস করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্পের এ মন্তব্য এসেছে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ৫৬তম বার্ষিক সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বক্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

ডব্লিউইএফে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে কানাডাকে ‘বিনামূল্যের সুবিধা’, বিশেষ করে নিরাপত্তা সুরক্ষা দিয়ে আসছে। অথচ কানাডা সেই অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা দেখাচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, তার প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কানাডাও এর সরাসরি সুরক্ষা পেত।

ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সহায়তা ছাড়া কানাডার অস্তিত্বই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কানাডার নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী কার্নির উদ্দেশে বলেন, ভবিষ্যতে বক্তব্য দেওয়ার সময় যেন তিনি তা মনে রাখেন।

অন্যদিকে ডব্লিউইএফে দেওয়া বক্তব্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ‘মহাশক্তির প্রতিযোগিতার নতুন যুগে’ নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে শুল্ককে রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সমালোচনা করেন, যা ওয়াশিংটনের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত অবস্থানের প্রতি পরোক্ষ ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে, গত ১৭ জানুয়ারি কানাডা ও চীনের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দেন কার্নি। তিনি জানান, এই চুক্তির মাধ্যমে কানাডার ব্যবসা ও শ্রমিকদের জন্য সাত বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি বাজার উন্মুক্ত হবে। চুক্তির অংশ হিসেবে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর আরোপিত শুল্ক কমানো এবং কানাডার কৃষিপণ্যের ওপর চীনের শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কার্নির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীন বর্তমানে কানাডার জন্য বেশি পূর্বানুমেয় বাণিজ্য অংশীদার। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে কানাডা বাড়তি শুল্কচাপের মুখে রয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/