• বুধবার , ২২ এপ্রিল, ২০২৬ | ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই সনদ স্বাক্ষর কেবল আনুষ্ঠানিকতা, আইনি ভিত্তি ছাড়া হবে গণপ্রতারণা: নাহিদ ইসলাম

জুলাই সনদ স্বাক্ষর কেবল আনুষ্ঠানিকতা, আইনি ভিত্তি ছাড়া হবে গণপ্রতারণা: নাহিদ ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:৩৭ ১৮ অক্টোবর ২০২৫

রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অস্থায়ী কার্যালয়ে শনিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ কেবল আনুষ্ঠানিকতা। তিনি বলেন, “যদি এর কোনো আইনি ভিত্তি না থাকে, তাহলে এর কোনো মূল্য বা অর্থ থাকবে না। আমরা এই আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিইনি। আইনি ভিত্তি ছাড়া এটি গণপ্রতারণা এবং জাতির সঙ্গে প্রহসন হবে।” সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পরও তিন দলের জোটের রূপরেখা অনুযায়ী রাজনৈতিক সমঝোতা রক্ষা হয়নি। সংবিধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিবর্তন করতে হলে আইনি ভিত্তি থাকা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, “৭২-এর সংবিধান যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে এবং পুরোনো ফ্যাসিস্ট কাঠামো টিকে থাকে—তার জন্য দেশে ও দেশের বাইরে নানা অপচেষ্টা চলছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট কাঠামোর সুবিধাভোগীদের চাপের কারণে কিছু রাজনৈতিক দল আপস করেছে। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং কিছু রাজনৈতিক দল ও ১৯৯০-এর অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার চাপের কারণে সরকার ঐকমত্য কমিশন গঠন, সংস্কার প্রক্রিয়া ও জুলাই সনদ পর্যন্ত এগিয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “৯০-এর পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশে চাই না। আমাদের লড়াই কেবল শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নয়, বরং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তন হলেই সমস্যার সমাধান হবে না, সংস্কারের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।” তিনি গতকাল পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত জুলাই যোদ্ধাদের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন জানান, এনসিপি জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার দাবিতে রাজপথে কর্মসূচি পরিচালনা করবে। তিনি বলেন, “ঐকমত্য কমিশনে আমরা জোরালো ভূমিকা পালন করেছি। শুরুতে অনেক রাজনৈতিক দল জুলাই সনদকে কেবল রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে রাখার পক্ষে ছিল।”

গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর ‘জুলাই যোদ্ধারা’ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। দুই ঘণ্টা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। উভয় পক্ষের অন্তত ২৭ জন আহত হন।

শেষ পর্যন্ত ২৪টি রাজনৈতিক দল ও জোট, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ স্বাক্ষর করেন। তবে জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং চারটি বাম দল—সিপিবি, বাসদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদ—সনদে স্বাক্ষর করেননি। গণফোরামও উপস্থিত থাকলেও স্বাক্ষর করেননি। পরে চাইলে তারা সনদে স্বাক্ষর করতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/